সোমবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১০
গিম্প টিউটোরিয়াল [স্পেশাল ইফেক্ট]
আর চুরি করতে আমার ভাল লাগে না। পাইরেটেড ফটোসপ ব্যবহার করতে নিজের কাছে চোর চোর মনে হয়। আমার যদি অনেক টাকা থাকত তাহলে আমি ফটোসপ কিনেই ব্যবহার করতাম। কিন্তু এখন দেখি গিম্পে ভাল ভাল ইফেক্ট দেওয়া যায়। তাই গিম্পের কিছু কিছু টিউটোরিয়াল মাঝে মাঝে আপনাদের মাঝে শেয়ার করব। আজ আমরা দেখব একটি স্পেশাল ইফেক্ট
গিম্প টিউটোরিয়াল [সুপারনোভা ইফেক্ট]
গিম্পের ভেতরে যত ঢুকছি ততই মজা পাচ্ছি। দারুন এক সফটওয়ার গিম্প। আজকে নিয়ে আসলাম আরেকটি টিউটোরিয়াল। এটা একটি সিম্পল টিউটোরিয়াল যে কেউ পারবেন। আপনি এটি সর্বোচ্চ ৫ মিনিটে তৈরি করতে পারবেন। তো আসুন কথা না বাড়িয়ে শুরু করে দিই।
প্রথমে গিম্পে প্রবেশ করে একটি নতুন ফাইল নিন 640*480 মাপের। তারপর Filter>Render>Fractal Explorer এ যান।
এখান থেকে Fractals থেকে Energetic Diamond সিলেক্ট করে প্রথমে Apply এবং তারপর OK করুন।
আপনার ইমেজ নিচের মত হবে
এরপর আবার Filter>Blur>Motion এ গিয়ে নিচের মত মান দিন
তারপর Filter>Light and Shadow>Supernova তে গিয়ে নিচের মত মান দিন
তাহলেই কেল্লাফতে!! দেখুন আপনার ইমেজ!!
আশাকরি ছোট্ট এই ইফেক্টটি সহজেই দিতে পারবেন। আগামীতে আরও ইফেক্ট নিয়ে হাজির হব আশাকরি।
গিম্প টিউটোরিয়াল [বিস্ফোরণ ইফেক্ট]
আবার আরেকটি অন্যায় কাজ করতে যাচ্ছি। আর সেটা হলো অনুবাদ। আর আমি নিজে থেকে যে ছাই ছাতা গুলো লেখি আশাকরছি সেগুলো সহজেই করতে পারবেন। আসুন আরেকটি অন্যায় কাজে শামিল হই। এ পর্বে আমরা দেখবো কিভাবে একটি টেকচারকে বিস্ফোরণের ইফেক্ট দেওয়া যায়। তো আসুন শুরু করে দেই। টিউটোরিয়ালটি শুরু করার আগে এই টেকচারটি ডাউনলোড করে নিন।
গিম্প ওপেন করুন। তারপর 700px * 700px মাপের একটি নতুন ফাইল নিন যার ব্যাকগ্রাউন্ড থাকবে কালো।
তারপর ডাউনলোডকৃত টেকচারটি ওপেন করুন। এটার পুরোটা Ctrl+A চেপে ব্লক করে আগের কালো ডকুমেন্টের উপর কপি করে পেষ্ট করুন।
খেয়াল রাখবেন এতে আমাদের দুটে লেয়ার তৈরি হবে। একটা টেকচারটি এবং অন্যটি টেকচার।
তারপর Filters > Map > Map object এ যান এখানে sphere সিলেক্ট করুন
এরপর কালারটা চেইঞ্জ করার জন্য Color > Invert এ যান। আপনার ইমেজ এমন হবে
এরপর আমরা অন্য আরেকটি ইফেক্ট দেওয়ার জন্য ইমেজকে পোলার থেকে আনপোলার তৈরি করে নিব। এজন্য প্রথমে Filters > Distorts > Polar coords এ গিয়ে To Polar থেকে টিক চিহ্ন তুলে দিন। তারপর Image > Transform > Rotate 90° CW এ যান। আপনার ইমেজ এমন হবে
তারপর Filters > Distorts > Wind এ গিয়ে মান দিন
Direction: Right
Edge affected: Leading
Threshold: 5
Strength: 37
কয়েকবার এই ইফেক্টটি দেওয়ার জন্য কিবোর্ড থেকে CTRL+F চাপতে পারেন। আপনার ইমেজ এমন হবে
এরপর Layer > Transform > 90° CCW এ যান। এরপর পোলার করার জন্য Filters > Distorts > Polar coords এ যান এবং To Polar এ টিক চিহ্ন দিয়ে ওকে করুন।
তারপর Colors> Colorize এ গিয়ে চিত্রের মত মান দিন
দেখুন ইমেজ
আপনি ইচ্ছা করলে Colors > Map > Gradient Map এ গিয়েও কালার চেইঞ্জ করতে পারেন।
গিম্প টিউটোরিয়াল [টেক্সট ইফেক্ট]
গিম্প দিয়ে আপনি সহজেই বিভিন্ন প্রকার টেক্সট ইফেক্ট দিতে পারবেন। গিম্পে ব্রাশ, টেকচার এবং গ্রিডেন্ট দিয়ে এক ক্লিকেই টেক্সট ইফেক্ট দিতে পারবেন। আসুন দেখি কিভাবে গিম্প দিয়ে টেক্সট ইফেক্ট দেওয়া যায়।
প্রথমে গিম্প ওপেন করুন। একটা নতুন ফাইল নেওয়ার জন্য File>New এ যান। তারপর এখান থেকে 640*300 পিক্সেল সিলেক্ট করুন। তারপর টেক্সট লেখার জন্য টেক্সট টুলটি ব্যবহার করতে হবে। টুলবারের টাইপ টুল এর উপর ক্লিক করুন।

তাহলে টাইপ করার জন্য উইন্ডো আসবে। এখানে আপনার টেক্সট লিখুন। আপনার কাংখিত টেক্সট লেখা হয়ে গেলে উইন্ডো এর Close এ ক্লিক করুন।

টেক্সট এর ফন্ট এবং সাইজ নির্ধারণ করতে পারবেন বামপাশে থেকে।

আপনারা হয়ত খেয়াল করবেন। টেক্সট লেখার সাথে সাথে একটি লেয়ার তৈরি হয়ে গিয়েছে।

লেয়ার নিয়ে একটু বকবকানি এখানে আছে দেখতে পারবেন। টেক্সট লেয়ারটির উপর রাইট ক্লিক করুন। এখান থেকে Text To Selection এ ক্লি করুন।

তাহলে আপনার টেক্সটি নিচের মত সিলেক্ট হয়ে যাবে।

এরপর কিবোর্ড থেকে Delete Press করুন।
আপনি যদি এই ধাপ পর্যন্ত আসতে পারেন তাহলে আপনি বুঝবেন আপনি টেক্সট ইফেক্ট দেওয়ার জন্য রেডি।
ইফেক্ট তিন ভাবে দিতে পারবেন।
১। ব্রাশ দিয়েঃ উক্ত ধাপে আসার পর টুলবক্স থেকে ব্রাশ টুল নির্বাচন করুন (সর্টকার্ট P) তাহলে টুলবারের নিচে ব্রাশের অপশন চলে আসবে। এখানে থেকে ব্রাশের সাইজ এবং অন্যান্য বিষয়গুলো নির্ধারণ করতে পারবেন। যে কোন একটি ব্রাশ সিলেক্ট করে টেক্সটের উপর ঘষাঘষি করুন।

তাহলে ইফেক্ট পাবেন।
২। প্যাটার্ন দিয়ে: উপরোক্ত ধাপে আসার পর প্যাটার্ন দিয়েও সহজে ইফেক্ট দিতে পারবেন। ডানপাশের উইন্ডোতে প্যাটার্ন না দেখতে পেলে Ctrl+Shift ধরে P চাপুন। নিচের মত প্যাটার্ন দেখতে পাবেন।

এখান থেকে প্যাটার্ন ড্রাগ করে টেক্সটের উপর ছেড়ে দিন। তাহলে ইফেক্ট পাবেন।
৩। গ্রিডেন্ট দিয়ে: গ্রিডেন্ট দিয়েও সহজে ইফেক্ট দিতে পারবেন। উপরোক্ত ধাপে আসার পর টুলবক্স থেকে গ্রিডেন্ট টুলটি সক্রিয় করুন। (সর্টকার্ট- L) তাহলে বামপাশে টুলবক্সের নিচে গ্রিডেন্ট অপশন দেখতে পাবেন

এখান থেকে পছন্দসই গ্রিডেন্ট সিলেক্ট করে আপনার টেক্সটের উপর ড্র্যাগ করে সহজেই ইফেক্ট দিতে পারবেন।
কিছু উদাহারণ
ব্রাশ দিয়ে:


প্যাটার্ন দিয়ে:


গ্রিডেন্ট দিয়ে:


আগামীতে আরও গিম্পের টিউটোরিয়াল নিয়ে হাজির হব।
গিম্প টিউটোরিয়াল [ছবিতে ইফেক্ট]
গিম্প দিয়ে খুব সহজেই আপনি ছবিতে ইফেক্ট দিতে পারবেন। আজ আমরা শিখব মোশন ইফেক্ট। এই ইফেক্টটি সহজেই যে কোন ছবিতে আপনি প্রয়োগ করতে পারবেন। আসুন দেখে নেই
প্রথমে আমরা ছবিটি গিম্পে ওপেন করব
ছবিটির লেয়ারের একটি ডুপ্লিকেট করে নিন। তারপর Filter>Blur>Motion Blur এ যান
এখানে জুম সিলেক্ট করে Length এ ৭৫ দিন
এরপর আমরা মাস্কমুডে কাজ করব। এজন্য লেয়ারের উপর রাইট ক্লিক করে Add Alpha Channel এ ক্লিক করুন।
চিত্রের মত সিলেক্ট করুন
তারপর আমরা মাস্কমুডে গ্রিডেন্ট দিব। এজন্য টুলবার থেকে গ্রিডেন্ট টুলটি সিলেক্ট করুন। এখান থেকে চিত্রের গ্রিডেন্ট সিলেক্ট করে চিত্রে দেখানেভাবে গ্রিডেন্ট অ্যাপ্লাই করুন।
এরপর লেয়ারটিকে অ্যাপ্লাই করার জন্য লেয়ারটির উপর রাইট ক্লিক করুন। তারপর Apply Layer Mask এ ক্লিক করুন।
তাহলেই যে রেজাল্ট দেখতে পারবেন তা হল
এভাবে অনেক ছবিতেই সহজেই মোশন ইফেক্ট দেওয়া যায়। আগামীতে আরও ইফেক্টের টিউটোরিয়াল নিয়ে হাজির হব।
টিউটোরিয়ালটি এখান থেকে অনুবাদ করেছি
গিম্প টিউটোরিয়াল [সাদাকালো ছবি কালার করা-১]
গিম্পে সাদাকালো ছবিকে কালার করার অনেকগুলো উপায় আছে। পর্যায়ক্রমে তা দেওয়ার চেষ্টা করব। আজ কালারাইজেশনের মাধ্যমে সহজেই কিভাবে ছবিকে কালার করবেন তা দেখানো হবে। প্রথমে আপনার কাংখিত সাদাকালো ইমেজটি গিম্পে ওপেন করুন।
আমি ওপেন করলাম এই ছবিটি।
সাদাকালো করা ছবি ওপেন করার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন যেন ছবিটি RGB মুডে থাকে। RGB না থাকলে করে নিন। এজন্য Image>Mode>RGB এ যান। ছবি কালার করার ক্ষেত্রে ছবির দিকে খেয়াল রেখে ছবিকে মনে মনে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে নেবেন যেমন এই ছবিটিকে আমি চার ভাগে ভাগ করে নিয়েছি
১। ত্বকের অংশ
২। ব্যাকগ্রাউন্ড
৩। জামা
৪। অন্যান্য (যেমন- চুল, চোখ, ভ্রু ইত্যাদি)
আমরা পর্যায়ক্রমে সব অংশ কালার করে নিব। প্রথমে ত্বকের অংশ ব্লক করে নিব। অনেকভাবে গিম্পে ব্লক করা যায়। আমরা করব Free Select Tool (F) দিয়ে। এই টুল দিয়ে সহজেই আপনি কোন অংশ ব্লক করতে পারবেন। তবে ব্লক করার সময় ছবিকে বড় করে নেবেন তাহলে ব্লক করা ভালো হবে। ছবি বড় করতে Ctrl+মাউসের চাকা ঘুরালেই হবে। আপনার যদি ছবিতে একাধিক অংশ ব্লক করার প্রয়োজন হয় তাহলে এক অংশ ব্লক করার পর অপর অংশ শুরু করার সময় শিফট চেপে ধরে ব্লক করুন। তাহলে একাধিক অংশ সহজেই ব্লক করতে পারবেন। যেমন আমি উপরের ইমেজের ত্বকের অংশ ব্লক করেছি
এভাবে ব্লক করার পর Colors>Colorize এ যান।
এখানে Hue, Saturation, lightness নামে তিনটি অপশন পাবেন। এগুলো স্ক্রল করে কালার আনুন। নানা রকমের কালার পাবেন। এখানে ত্বকের কালার আনতে চেষ্টা করুন। যেমন আমি নিচের মত মান দিয়েছি
তাহলে চিত্র এরকম পাবেন
এই যে পাঠক! যাবেন না! আরও অনেক কাজ বাকী।
আমরা শুধু ত্বকের কালার করলাম। এখন আমরা একইভাবে জামার কালার করব। এজন্য আপনাকে পূর্বের মতই জামার অংশকে ব্লক করতে হবে। আমি আমার মামনির ছবিটি নিচের মত ব্লক করলাম
এরপর আবার Colors>Colorize এ যান।
তারপর ইচ্ছেমত স্ক্রল করে কালার দিন। যেমন আমি নিচের মত মান দিলাম
আর ফলাফলটা এমন পেলাম
এর পরের অংশ ব্যাকগ্রাউন্ড এর ব্যাপার। তবে এটি আগামী পর্বে দেখাব। কিভাবে ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড সহজে পরিবর্তন করা যায়।
আশাকরি আপনাদের সাথে পাব।