কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২০ জুন, ২০১০

অনন্ত, মেহেদী পাতা দেখেছো নিশ্চয়ই...

অনন্ত,
মেহেদী পাতা দেখেছো নিশ্চয়ই। ওপরে সবুজ, ভেতরে রক্তাক্ত ক্ষত-বিক্ষত। নিজেকে
আজকাল বড় বেশী মেহেদী পাতার মতো মনে হয় কেন? ওপরে আমি অথচ ভেতরে কষ্টের
যন্ত্রণার এমন সব বড় বড় গর্ত যে, তার সামনে দাঁড়াতে নিজেরই ভয় হয় অনন্ত। তুমি
কেমন আছো? বিরক্ত হচ্ছো না তো? ভালোবাসা যে মানুষকে অসহায়ও করে তুলতে পারে
সেদিন তোমায় দেখার আগ পর্যন্ত আমার জানা ছিলো না। তোমার উদ্দাম ভালোবাসার
দ্যুতি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে ফেলেছে আমার ভেতর আমার বাহির। আমারই হাতে
গড়া আমার পৃথিবী।

অনন্ত, যে মিথীলা সুখী হবে বলে ভালোবাসার পূর্ণ চন্দ্র গিলে খেয়ে ভেজা মেঘের
মতো উড়তে উড়তে চলে গেলো আজন্ম শূণ্য অনন্তকে আরো শূণ্য করে দিয়ে তার মুখে এসব
কথা মানায় না আমি জানি। কিন্তু আমি আর এভাবে এমন করে পারছি না। আমার চারদিকের
দেয়াল জুড়ে থই থই করে আমার স্বপ্ন খুনের রক্ত। উদাস দুপুরে বাতাসে শীষ দেয়
তোমার সেই ভালোবাসা, পায়ে পায়ে ঘুরে ফেরে ছায়ার মতন তোমারই স্মৃতি, আমি
আগলাতেও পারি না, আমি ফেলতেও পারি না। সুখী হতে চেয়ে এখন দেখি দাঁড়িয়ে আছি
একলা আমি; কষ্টের তুষার পাহাড়ে।

অনন্ত, তোমার সামনে দাড়ানোর কোনো যোগ্যতাই আজ আমার অবশিষ্ট নেই, তবুও ...
তবুও তুমিই একদিন বলেছিলে, "ভেজা মেঘের মতো অবুঝ আকাশে উড়তে উড়তে জীবনের
সুতোয় যদি টান পড়ে কখনো, চলে এসো ... চলে এসো, বুক পেতে দেবো, আকাশ বানাবো আর
হাসনুহেনা ফোটাবো"।

সুতোয় আমার টান পড়েছে অনন্ত, তাই আজ আমার সবকিছু, আমার একরোখা জেদ, তুমিহীন
সুখী হওয়ার অলীক স্বপ্ন, সব ... সবকিছু জলাঞ্জলি দিয়ে তোমার সামনে আমি
নতজানু। আমায় তোমাকে আর একবার ভিক্ষে দাও। কথা দিচ্ছি তোমার অমর্যাদা হবে না
কোনোদিন। অনন্ত, আমি জানি, এখন তুমি একলা পাষাণ কষ্ট নিয়ে ঘুরে বেড়াও।
প্রচন্ড এক অভিমানে ক্ষণে ক্ষণে গর্জে ওঠে অগ্নিগিরি। কেউ জানে না, আমি জানি।
কেন তোমার মনের মাঝে মন থাকে না। ঘরের মাঝে ঘর থাকে না। উঠোন জোড়া রূপোর কলস,
তুলসী তলের ঝরা পাতা, কুয়োতলার শূণ্য বালতি; বাসন-কোসন, পূর্ণিমা আর
অমাবস্যা, একলা ঘরে এই অনন্ত, একা একা শুয়ে থাকা, কেউ জানে না, আমি জানি। কেন
তুমি এমন করে কষ্ট পেলে? সব হারিয়ে বুকের তলের চিতানলে, কেন তুমি নষ্ট হলে?
কার বিহনে চুপি চুপি ধীরে ধীরে, কেউ জানে না আমি জানি, আমিই জানি।

আগামী শনিবার ভোরের ট্রেনে তোমার কাছে আসছি। অনন্ত, আমায় আর কিছু না দাও,
অন্তত শাস্তিটুকু দিও। ভালো থেকো।

তোমারই হারিয়ে যাওয়া
মিথীলা

ডাউনলোড লিংক::: http://bit.ly/cKPzYv

সূত্র-http://www.somewhereinblog.net/blog/tajulislamblog/29181428

বুধবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১০

এবোরশন Abortion

এসেছিলাম....জন্মাবার স্বপ্ন নিয়ে
মিশেছিলাম....তোমার রক্তস্রোতে
আলোর পথে....হোচট খেয়ে দেখি
হারিয়ে গেছি....আধারে

মা এর কাছে অনাগত সন্তানের চিঠি

মা এর কাছে অনাগত সন্তানের চিঠি

আম্মু কেমন আছ? আমি খুব ভাল আছি!
মাত্র কয়েক দিন আগেই আমি তোমার গর্ভে এসেছি! বেড়ে উঠছি আস্তে আস্তে!
জানো আম্মু, তোমাকে আম্মু হিসেবে পেয়ে আমি যে কি প্রচন্ড খুশি হয়েছি! তোমাদের ভালবাসায় আমার জন্ম হবে, এটা আমার জন্য কতটা গর্বের? দেখ আম্মু, আমিই হবো পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী বাবু!

১টা মাস দেখতে দেখতে পার হয়ে গেল! জানো আম্মু, আমি এখন আমার দেহটাকে একটু একটু অনুভব করতে পারি! না না, এখনও দেখানো যাবে না, তেমন কিছু তো হই নি এখনও! আর কয়েকটা দিন সময় দাও, দেখবে আমি তোমাদের কত্তটা গর্বিত করব!

মা তোমার মন খারাপ কেন? কি এতো উল্টো-পাল্টা ভাবছ? আমার ভাল্লাগছে না তোমার এই মন খারাপ করা চিন্তাগুলো! দেখ সব ঠিক হয়ে যাবে!

আড়াই মাস পার হয়ে গেছে! জানো আমার এখন হাত হয়েছে, আমি এখন ওটা দিয়ে খেলতে পারি!

আম্মু কি হয়েছে আমাকে বলো? কেন এতো কাদছ তুমি? তুমি আর আব্বু কেন এতো রাগ করছ পরস্পরের উপর? তোমরা কি আমাকে আর চাও না আম্মু? কিন্তু দেখ আমি তোমাদের জন্য কত্তোকিছু করব! তোমরা আমাকে কত্ত ভালবাসবে, অনেক অ-নে-ক চাইবে আমাকে!

৩ মাস পার হয়ে গেল! কিন্তু আম্মু তুমি তো এখনও এত্তো মন খারাপ করে আছ? কেন আম্মু? আজকে তোমরা ডাক্তারের সাথে দেখা করে কালকের জন্য একটা সময় নিলে। কিন্তু কেন আমি এত্তো খুশি হলেও তোমার মুখ ভার?

কোথায় যাচ্ছ আম্মু? তুমি তো এরকম সময় ঘুমাও না! তাছাড়া আমারও তো খেলা শেষ হওয়া এখনও কত্তো বাকি?!

একি আম্মু? আমার ঘরে এটা কি জিনিস ঢুকাচ্ছে? এটা কি নতুন কোন খেলনা? একি, এটা তো আমার ঘরটাকে নষ্ট করে ফেলছে!

আম্মু তাদেরকে থামতে বল! এটা তো আমার হাত! এভাবে টানছে কেন, আমি ব্যথা পাচ্ছি তো! আমাকে বাচাঁও আম্মু, দেখ না আমি এখনও কত্ত ছোট, আমি নিজেকে বাচাতে পারি না। মা ওরা আমার পা ছিড়ে ফেলছে মা! আমাকে সাহায্য করো!

তাদেরকে থামাও মা! সত্যি বলছি, তাহলে আমি আর ওদেরকে লাথি মারব না! কেমন করে একজন মানুষ এরকম করতে পারে! আমাকে বাচাও মা! আমি আর পারছি না। আমাকে মেরো না!

মঙ্গলবার, ৩০ মার্চ, ২০১০

তোমাকে পাওয়ার জন্য

তোমাকে পাওয়ার জন্য কত রৌদ্রতপ্ত রাজপথ মাড়িয়েছি,
পার করেছি কত সহস্র বর্গ মাইল পথ; তোমার পিছু পিছু।
পিছনের সিট গুলো খালি রেখে
ভেপসা গরমে, বাসের হেন্ডেল ধরে ঝুলেছি কত অজানা দূরত্ব;
আঁড় চোখে শুধু একবার তোমাকে দেখার জন্য।
সেই উঠতি বয়সে পাগলামির বাঁধ ভেঙ্গেছি,
ছেলেমানুষির সীমা পার করে নিজেকে প্রমাণ করেছি দূর্বিনীত।
বৃষ্টিতে ভিজেছি, পুলিশের লাঠির বাড়ি খেয়েছি,
তবু ঠিক রাত বারোটায় উপস্থিত হয়েছি তোমার জন্মদিনে
তোমার বারান্দার সামনে, আঠারোটি গোলাপ হাতে।
শুধু তোমাকে পাওয়ার জন্য...

হাতে হাত রেখে চষে বেরিয়েছি জিয়া উদ্যান, সংসদ ভবন;
সকাল-সন্ধা আড্ডায় মাতিয়েছি টি.এস.সি আর কার্জন হল।
চোখে চোখ রেখে বলেছি, ভালবাসি ভালবাসি ভালবাসি ।
রাতের ঘুমকে স্বর্গলোকে পাঠিয়ে,
শহরের দু'মেরুতে থেকেও আদরে আদরে সিক্ত করেছি রাতের জোছনা।
কল্পনার সীমানাকে সপ্তম আকাশের উচ্চতায় উঠিয়ে
তোমাতে মিলে-মিশে হয়েছি একাকার।
অনতিক্রম্য জেনে; বিনিদ্র নয়নে অপেক্ষা করেছি,
শুধু তোমাকে নিজের করে পাওয়ার জন্য...

সেই তুমি আমাকে ছেড়ে চলে গেলে বহুদূর,
কল্পনার সপ্তম আকাশকে অতি নগণ্য প্রমাণ করে
তুমি চলে গেলে সকলের সীমানার বাইরে।
ছোট ছোট পায়ে যে তুমি আমার সাথে তাল মিলাতে পারতে না
সে তুমি কিভাবে আমাকে ছেড়ে চলে গেলে এত দূর?
এত দিনেও চিনলে না আমায়;
বুঝলে না তোমাকে ছাড়া প্রতিটি মুহূর্ত অসহায় এই আমি।
তাইতো এভাবে চলে গেলে, স্বার্থপরের মত।
জীবনকে হারিয়ে এ যুদ্ধে তুমি জয়ীই হলে,
আর তোমাকে হারিয়ে আমি খুঁজে ফিরছি আমার জীবন।
আজও চেয়ে থাকি আকাশ পানে, ওই দূর নক্ষত্রটির দিকে
শুধু তোমাকে পাওয়ার জন্য

কল্পনা বিলাসী

আমি কল্পনা বিলাসী। এই চারদেয়াল,শৃঙ্খল আর পরাধীন কর্মব্যস্ত জীবন থেকে বের হয়ে আসার জন্যই কল্পনা করি। এই যানজট যুক্ত আর দূষিত বাতাসের শহরে আমার নিঃস্বাস বন্ধ হয়ে আসে। তাই কল্পনায় আমি আমার মত করে বাচাঁর স্বপ্ন দেখি। আমি জানি আমার কল্পনার স্বপ্নের কোন বাস্তবতা নেই। তবুও কল্পনা করি স্বপ্ন দেখি..........। নিজের কল্পনার জগতে অবাস্তব স্বপ্নকে পূর্ণ করি। প্রতিদিনের নতুন সূর্যে উদয়ের প্রতিটি দিন নিজের জীবনকে সুন্দর করা আর স্বপ্নকে নিয়ে আগামীর পথচলার প্রত্যয়ে আমার এগিয়ে যাওয়া। আমি ভাল আছি আমার কল্পনা,স্বপ্ন আর প্রকৃতিকে ভালোবেসে আশেপাশের সকল মানুষকে ভালোবেসে।